ডিপফেইক

DeepFake শনাক্ত করার উপায় জানার আগে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা নেয়া দরকার।

DeepFake কি?

  • DeepFake হল আসল ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি দ্বারা প্রতিস্থাপন করা এবং তা খারাপ উদ্দেশ্যে প্রচার করা। সাধারণত সেলিব্রিটি, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টদের টার্গেট করে এমন নকল বা ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়। এর পিছনে বড় ধরনের উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। অর্থ আয় এবং রাজনৈতিক সুবিধা লাভ যাদের মধ্যে অন্যতম।

DeepFake কিভাবে বানায়?

  • এটি কোনো সাধারণ মেশিন বা স্টওয়্যারের সাহায্যে বানানো সম্বভ নয়। অনেক উচ্চ  বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এটি বানানো হয় এবং অতি সূক্ষতার সাথে ভিডিও ও অডিও এডিট করা হয় যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পরা তো দূরের কথা, সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রামও এটি ধরতে পারে না সেটা আসল নাকি নকল। DepFake তৈরি করা অনেক কঠিন আর এটা সাধারণ হ্যাকারদের কাজও নয়DeepFake বানাতে উন্নত প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হয়।

DeepFake কিভাবে ছড়ায়?

  • নিউজ পোর্টালসহ বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে ছড়ায়। যারা এগুলি বানায়, বানানোর পর তাদের টার্গেট অনুযায়ী সেগুলি প্রচার করে। যেমন, যদি কোনো সেলিব্রিটির অশ্লীল ভিডিও/ফেক পর্ণগ্রাফি তৈরি করা হয় এবং উদ্দেশ্য থাকে এটির সাহায্যে তাকে ব্ল্যাকমেইল করবে, তাহলে শুধুমাত্র সেলিব্রিটিকে অবগত করে। উদ্দেশ্য সফল না হলে অর্থের বিনিময়ে তারা বিভিন্ন পর্ণ সাইট প্রচার করে।

DeepFake কবে আবিস্কৃত হয়?

  • ১৯৯০ সালে টেকনোলজি আবিষ্কৃত হয়। এরপর বিভিন্ন গবেষণায় এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে প্রথম এটি প্রকাশ পায় একজন Reddit ইউজারের মাধ্যমে। তিনি একটি ডক্টরের পর্ণ ক্লিপের চেহারার সাথে Gal Gadot, Taylor Swift, Scarlet Johanson এর চেহারা পরিবর্তন করে দেন।

DeepFake এর সংখ্যা এবং এর প্রচার অনুপাত

  • সর্বশেষ DeepFakes গণনা করা হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। সেই মোতাবেক মোট DeepFake এর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের মত এবং এর ৮৪ শতাংশই ২০১৮২০১৯ সালে তৈরি হয়েছে। এদের অধিাংশই পর্ণগ্রাফি। এ থেকেই অনুমান করা যায় Deএpfakes কত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

DeepFake এর বিপদ

  • এটি খুবই মারাত্নক ক্ষতিকারক একটি কাজ। জন্য একজন ব্যক্তি বা রাস্ট এমনকি গোটা বিশ্ব বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। যেমন, কেউ যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও ক্লিপের বক্তব্যকে এডিট করে তার কথা এবং বচন ভঙ্গি পরিবর্তন করে এমনভাবে প্রচার করে যার অর্থ হতে পারে যে তিনি খুব শীঘ্রই কোনো একটি দেশে পারমাণবিক হামলা চালাতে যাচ্ছেন। এমন Deepfake-এর কি ধরনের প্রতিক্রিয়া বা বিপদ হতে পারে তা আন্দাজ করা কঠিন।

DeepFake এর কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ।

  • Jordan Peele এবং Buzzfeed মিলে বারাক ওবামাকে নিয়ে একটি ফেক ভিডিও বানায়। যেখানে বারাক ওবামাকে বলতে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন জঘন্য ব্যক্তি। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বারাক ওবামা এমনটি বলেননি। পরে অবশ্য Buzzfeed তাদের এই ভিডিও বানানোর কৌশল ব্যাখ্যা করেছিল এবং স্বীকার করেছিল এটি ফেক। এই ভিডিও বানানোর পর টানা ৫৬ ঘণ্টা লেগেছিল ভিডিওর অটো প্রসেসিং করতে।
  • “Better Call Trump” Money llaundering101 হলো Straight Up প্যারোডি। এটি “Breaking Bad” নামের একটি টিভি সিরিজের কিছু অংশ নেয়। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেমস ম্যাকগিল হিসেবে উপস্থাপন করে। ট্রাম্পের ভয়েস ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সেখানে ট্রাম্প নিজে ভয়েস দেয়নি কিন্তু সেটিকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পই কথাগুলো বলছে।
  • বাংলাদেশে DeepFake তৈরি করা হয়েছে কিনা জানা যায়নি। তবে তৈরি হলে নিশ্চয় সেটা প্রকাশ পেত বলা প্রজুক্তিবিদগন মনে করেন। তবে তাদের মতে, বাংলাদেশে DeepFake বানানো সময়ের ব্যপার মাত্র।

DeepFake কীভাবে শনাক্ত করবেন?

ধাপ ১:

প্রথমে আপনি আপনার পছন্দমত একটি ব্রাউজার (Google অথবা Yahoo) খোলে www.deepware.ai ওয়েবসাইটে চলে যান।

ধাপ ২:

আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে আপনার সন্দেহজনক ভিডিওটি আপলোড করুন। তারপর 

SCAN অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩:

SCAN হওয়ার পর Analyzed Faces ক্যাটাগরিতে আপনার ফলাফল পেয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *