ফেইক, অপপ্রচার

রোগী ও কবুতরের ছবির সাথে লেখাটি ফেইক

তবে এরইমধ্যে আরও অনেকে ছবিটি ব্যবহার করা শুরু করেন। পরবর্তীতে পুরান ছবিটি মূলত সিলেটের ঘটনার ক্ষেত্রে বহুলভাবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। শত শত ফেসবুক ব্যবহারকারী বুঝে-না বুঝে তাদের টাইম লাইনে ছবিটি শেয়ার করছে। এদের মধ্যে আছেন সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ এমনকি সাংবাদিকও। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের সাথে ছবিটি শেয়ার হচ্ছে। ফলে তা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

Factখুঁজি প্রতিবেদক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

২৬ মার্চ শনিবার থেকে একটি ছবি বর্ণনাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে। ছবিতে এক রোগী হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে আছেন। তার ওপরে বসা একটি কবুতর। বলা হয়েছে, একজন নার্স এই ছবিটি তুলেছেন। সেখানে গল্পের মত করে একটি কাহিনী লেখা হয়েছে, যেখানে দাবী করা হয় কবুতরটি রোগীর পরিচিত। কারণ কবুতরটিকে তিনি পার্কে খাবার দিতেন। তিনদিন ধরে রুগীর পরিবার খোঁজ না নিলেও কবুতর দুদিন ধরে লোকটির কাছে একবার আসছে।

 

Factখুঁজির অনুসন্ধানে রোগীর গায়ের উপর কবুতর বসে আছে তথ্যটুকু বাদে লেখার বাকি অংশের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাকি বর্ণনা সম্পূর্ণ কল্পিত ও মনগড়া।

”কোলকাতার আড্ডা ও গল্প” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে মূলত এটি ছড়ায় #বেজুবান_ফরিস্তা hashtag-এর মাধ্যমে গত শনিবার। এরই মধ্যে পোস্টটি চার শতাধিক শেয়ার হয়েছে। শত শত রিঅ্যাক্ট ও কমেন্ট পড়েছে। এখনও অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ও ফেসবুক গ্রুপ এটা শেয়ার করছে। “মধ্যবিত্ত” গ্রুপেও পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে। এভাবেই এটি ভাইরাল হচ্ছে হাজার হাজার মানুষে মধ্যে। ইউটুবেও একই রকম পোস্ট খুঁজে পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটি প্রথম প্রকাশ করে haikudeck dot com নামের একটি ওয়েব সাইটে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। রাশিয়ান এক ওয়েবসাইটেও ব্যবহার করা হয় ২০১৯ সালে। যেখানে সারাবিশ্বের ডাক্তারদের কাজ করা নিয়ে একটি লেখায় ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। এই সাইটে বলা হয়েছে ছবিটি গ্রীসের একটি হাসপাতালের। ছবিটির রুশ ভাষায় ক্যাপশন হচ্ছে (Греция, Афины. Голубь залетел в палату и решил осмотреться.) যা অনুবাদ: গ্রীস, এথেন্স। একটি কবুতর রুমে এসে চারিদিক দেখছে। (Greece, Athens. The pigeon flew into the room and looked around.)

 

Factখুঁজি বিশেষজ্ঞরা অনুসন্ধান করে দেখেছেন বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ব্যবহৃত হলেও কোথাও বলা হয়নি রোগী কুবুতরকে পার্কে খাবার দিতেন, কবুতর তার পরিচিত অথবা তিনদিন ধরে পরিবারের কেউ খোঁজ না নিলেও কবুতর দুদিন ধরে লোকটির কাছে একবার এসে বসে এবং চলে যায়।

 

অথচ ছবিটিকে ঘিরে সুন্দর একটি গল্প বানানো হয়েছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। মানবিক আবেদন তৈরি করে এমনভাবে তা ছড়ানো হচ্ছে যেন এটি সাম্প্রতিক সময়ের একটি ছবি এবং সাথের লেখাটিও সত্য।

 

সত্য হল ছবিটি পুরান এবং ভাইরাল হওয়া গল্পটি মনগড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *