কেন Factখুঁজি

মিথ্যা সংবাদ, গুজব এবং অপপ্রচাররোধে আজ যেখানে সারা পৃথিবীতে গণমাধ্যমগুলো ফ্যাক্ট চেকারদের সহযোগিতা নিচ্ছে কিংবা নিজেরাই ফ্যাক্ট-চেকিং এর ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, সেখানে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো যেন ক্রমশই বিপরীত দিকে হাঁটছে। এখানে তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে দেয়া এবং সেই সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিমূলক শিরোনাম যুক্ত করে দেয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, কোভিড-১৯ মহামারীতে এই প্রবণতা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে যদিও বহুসংখক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিতভাবে এ ধরণের কাজ করে আসছে।

এছাড়াও রয়েছে কিছু সংঘবদ্ধ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী যারা শুধুমাত্র নিজেদের বা অন্য কোন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশে অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে জনগনের মনোযোগ আকর্ষণ করে। আজকাল প্রায়ই দেখি একটি ফেইক নিউজ, গুজব বা বিভ্রান্তিকর শিরোনামযুক্ত প্রতিবেদন সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা, পাঠক এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে সংবাদের কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব নয়। অবস্থা এখন এমন যে একটা নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎসের অভাবে সাধারণ মানুষ আজ বিভ্রান্ত। তারা জানে না কোথায় সত্য খুঁজে পাবে।

ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধের বিশ্বজুড়ে এখন অনেক সংস্থা রয়েছে যারা নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া খবর, ছবি বা ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করে। অভিজ্ঞ সাংবাদিক, গবেষক এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞগণ মিলে একযোগে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকেন। দুর্ভাগ্যক্রমে, বাংলাদেশে এখনও তেমন সংগঠন গড়ে ওঠেনি।

সময় এসেছে সেই শূন্যস্থান পূরণের। একদল প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের হাত ধরে জন্ম হয়েছে Factখুঁজি’র। তবে Factখুঁজি শুধুমাত্র সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে না। বরং যে কোনো ভুয়া সংবাদ, গুজব বা মুখরোচক গল্প প্রচারের পেছনে কারা কাজ করছে এবং তাদের কই উদ্দেশ্য; এসব কিছু উম্মোচনে Factখুঁজি’র সজাগ দৃষ্টি থাকবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে Factখুঁজি কিছু টুলস (Tools) তৈরীর করছে যা দিয়ে একজন নাগরিক নিজেই যেকোনো ওয়েবসাইট, ছবি, ভিডিও, এমনকি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্টের সত্যতা যাচাই করতে পারবে। সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য Factখুঁজি প্রশিক্ষণের প্রদানের ব্যবস্থাও করবে।

এসব কিছুর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভুয়া সংবাদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা যেন তারা নিজেদের অজান্তেই এসবের প্রচার করা থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, ভুয়া সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে সাফল্যের সাথে লড়াই করতে পারবো যদি আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারি এবং তাদের মাধ্যমে আমাদের যাচাইকৃত তথ্য (কোনটা ভুয়া আর কোনটা সত্য) বেশী করে প্রচার করতে পারি। কেননা, মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্যকে জয়যুক্ত করার জন্য এটাই একমাত্র পথ।